সোনারগাঁ বিশেষ প্রতিবেদক:
অনন্তমূল লতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ভেষজ লতা। চর্মরোগ ও রক্তশুদ্ধিতে এর শিকড় বা মূল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
পরিচিতিঃ-
অনন্তমূল একটি লতানো গাছ। অন্য গাছকে অবলম্বন করে বা কোন কিছুর উপর পেচিয়ে থাকে। মূল অনেকটা লম্বা হয় ও মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে বলে এর নাম দিয়েছে অনন্তমূল। পাতা সরু ও লম্বা, দেখতে কালচে সবুজ। পাতার মাঝখানে শিরা বরাবর সাদা দাগ থাকে। পাতা ও লতার যেকোন অংশ ছিড়লেই দুধের মতো সাদা কষ বের হয়।
প্রচলিত নামঃ অনন্তমূল
ইংরেজি নামঃ Indian Sarsaparilla
পরিবারঃ Periplocaceae

পাতাসহ গাছের সমস্ত অংশ ব্যবহার করা যায়।
কার্যকারিতা: খোস-পাঁচড়া, রক্তদুষ্টি, একজিমা, চুলকানি, ব্রণ, শোথ, হাত-পা জ্বালা ও কোষ্ঠকাঠিন্য তে কার্যকর।
খোস-পাঁচড়া, রক্তদুষ্টি, একজিমা, চুলকানিতেও কার্যকরী।
প্রধান ব্যবহারসমূহ:-
চর্মরোগ ও অ্যালার্জি : খোস-পাঁচড়া, একজিমা, ব্রণ ও চুলকানি নিরাময়ে এর মূল বেটে লাগানো অত্যন্ত কার্যকর।
ব্যবহার্য অংশঃ মূল/সমস্ত গাছ,
মাত্রাঃ চূর্ণ ১-৩ গ্রাম,
প্রতিদিন ২ বার আহারের পর সেব্য।
রক্ত বিশুদ্ধকরণ: অনন্তমূলের শিকড় রক্ত পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং রক্তদূষণজনিত সমস্যা দূর করে।
দাহ ও প্রদাহ: হাত-পা জ্বালাপোড়া ও শরীরের যেকোনো অংশের প্রদাহ কমাতে এর মূলের পেস্ট বা রস ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার্য অংশঃ সমস্ত অংশ,
মাত্রাঃ ৩-৫ গ্রাম,
ব্যবহার পদ্ধতিঃ পিষে রস করে পানিসহ অল্প চিনি মিশিয়ে প্রতিদিন দুইবার বার সেবন করতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও শোথ: লতা ও মূলের নির্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য এবং শরীরের ফোলাভাব (শোথ) দূর করতেও বেশ উপকারী।
ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত অনন্তমূলের মূল পিষে ১-৩ গ্রাম পরিমাণ কুসুম গরম পানি বা মধুর সাথে খাওয়া হয় এবং ত্বকে ব্যবহারের জন্য মূল বেটে সরাসরি প্রলেপ দেওয়া হয়।
যেমনটি উইকিপিডিয়া জানিয়েছে, “এই লতার নানা ভেষজ গুণ আছে; যেমন খোস পাঁচড়া, চুলকানি, ব্রণ, একজিমা, হাত পা জ্বালা, শোথে, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদিতে বেশ উপকারী।
”সতর্কতা: যেকোনো ভেষজ উপাদান সেবনের আগে সরাসরি একজন ইউনানী /আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ ব্যতিরেকে করা ব্যবহার করা উচিত নয়।