মোঃ আক্তার হোসেনঃ-
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রশাসন মানেই শুধু দাপ্তরিক ফাইল, সভা আর সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এমন প্রচলিত ধারণাকে কিছুটা বদলে দিয়ে জনসেবাকে মানবিকতা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
তিনি বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার কৃতি সন্তান জন্ম শৈশব কৈশোর এবং শিক্ষা, কর্মজীবন সবসময়ই নিজেকে প্রমাণ করতে চান সঠিকভাবে সজ্ঞানে বুদ্ধিমত্তার সাথে মানিয়ে নিতে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামাজিক সচেতনতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষায় গুরুত্ব, তরুণদের বিকাশে উদ্যোগশিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী, সহনশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা বিতর্ক উৎসব-২০২৬’ আয়োজন করা হয়। এতে যুক্তিবোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও জলবায়ু সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষাকে শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের চিন্তা, যুক্তি ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।পিছিয়ে পড়াদের পাশে প্রশাসন অসহায় ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্যও সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন। চলতি বছরের আগস্টে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কামাল হোসেন পিয়াসকে শিক্ষা, চাকরির প্রস্তুতি ও অনলাইনভিত্তিক কাজের সুবিধার জন্য একটি ল্যাপটপ দেওয়া হয়।এর আগে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হওয়া এক মেধাবী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাহাতকেও সহায়তা দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।এ ধরনের উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সহায়তাকে কেবল তাৎক্ষণিক আর্থিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা ও আত্মনির্ভরতার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা।দুর্যোগ মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগউপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। Climate Resilient Campus Initiative-এর আওতায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলার এই উদ্যোগ প্রশাসনের সঙ্গে নাগরিক সমাজের সমন্বয়ের একটি উদাহরণ।
অন্যদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সদর উপজেলা পরিষদ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।জনবান্ধব প্রশাসনের প্রত্যাশা একজন ইউএনওর মূল দায়িত্ব সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। তবে বর্তমান সময়ে নাগরিকরা শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়, দ্রুত সেবা, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করেন।এস এম ফয়েজ উদ্দিনের বিভিন্ন উদ্যোগে মানবিক প্রশাসনের যে চিত্র উঠে আসছে, তা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এই উদ্যোগগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ।বিশেষ করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানো, ভূমি ও সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধ, পরিবেশ রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহি এসব ক্ষেত্রেও আরও দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য উদ্যোগ প্রয়োজন।প্রশংসার পাশাপাশি জবাবদিহিও জরুরি প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি তাঁর অধীনস্থ প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাস্তব ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
তাই নারায়ণগঞ্জ সদরবাসীর প্রত্যাশা ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো যেন কেবল বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি না হয়ে টেকসই জনসেবা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থার অংশ হয়।মানুষের দরজায় প্রশাসন পৌঁছে দেওয়া, সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং সরকারি সেবায় আস্থা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা হতে পারে একটি জনবান্ধব ও স্মার্ট উপজেলা প্রশাসনের উদাহরণ।আর সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন উদ্যোগের পাশাপাশি ধারাবাহিকতা, প্রচারের পাশাপাশি বাস্তব ফলাফল এবং প্রশংসার পাশাপাশি নিয়