নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ওলামা লীগ নেতা মাহাবুব হোসেন মানিককে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন, প্রভাব বিস্তার, আর্থিক লেনদেন এবং সরকারি জায়গা দখলসহ নানা অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বেশিরভাগই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হিরাঝিল এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন শ্রমিক ও ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে মানিকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পাওনা অর্থ পরিশোধে বিলম্ব করার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি দাবি করেন, কাজ করার পরও কিছু শ্রমিক তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পেতে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
একজন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মানিকের সঙ্গে তার ভাইদের বিরোধ রয়েছে এবং অতীতে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া গ্যাসের লাইন কেটে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিরোধপূর্ণ বা বিতর্কিত জায়গা কেনা, পরে মামলা-মোকদ্দমা ও দলিল সংক্রান্ত জটিলতার মাধ্যমে ওইসব সম্পত্তির মালিকানা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে মানিকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন বিষয়গুলো তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। বর্তমানে হিরাঝিল এলাকায় তার একটি বাড়ির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে মানিকের পারিবারিক আচরণ নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তার ছোট মেয়ের বিয়ের সময় হিরাঝিল এলাকার ৩ নম্বর রোডে তালুকদার বাড়ির সামনে স্ত্রীকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে মারধর করেন তিনি।
হিরাঝিল এলাকার আরেক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, মানিকের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তার দাবি, কারও কাছ থেকে ধার বা হাওলাত নেওয়া টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং কখনো কখনো ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিজের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করছেন মাহাবুব হোসেন মানিক। তবে এ দাবির পক্ষেও স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে হিরাঝিল এলাকায় ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই নারীর মাথায় আঘাত করা হলে চিকিৎসার সময় কয়েকটি সেলাই দিতে হয়। তবে ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাহাবুব হোসেন মানিক বলেন, “আমার ভাইয়েরাই এসব সংবাদ করাচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সত্য নয়।”
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”