প্রতিদিনের নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে কুমিল্লা থেকে আসা ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুইদিন পর একই পরিবারের চার জনের মধ্যে ভাই-বোন তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে বাবা হেলাল উদ্দিন।
শনিবার সকাল আটটায় বৈদ্যরবাজার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহ গুলো উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলার শ্রীমরদী গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যপাড়া গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে ২টি গরু, ১টি ছাগলসহ ১৪জন যাত্রী নিয়ে তারা আসার পথে নদীর মাঝে ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়। এসময় ৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও পাঁচ জন নিখোঁজ হয়। রাশিদা বেগম নামে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিখোঁজ থাকে একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন , তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন।
বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান করতে আসার সময় এ ঘটনা ঘটে। ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহত রায়েশা বেগম (৫৫) ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
এদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায় সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধানে মেঘনা নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে অন্ধকার নেমে আসায় শুক্রবার সকাল থেকে ডুবুরি দল কাজ করবেন।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য তাদের ১৪ জন আত্মীয় স্বজন বিয়ের বাজার,দুটি গরু ও একটি খাঁসিসহ ট্রলারযোগে আসেন। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়। এসময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার ৮জনকে উদ্ধার করে।
নিহত রায়েশা বেগমের বড় ভাই আবুল কাশেম জানান, মামাতো ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য দুটি গরু, একটি খাসি ও বিয়ের বাজার নিয়ে তাদের ১৪জন আত্মীয় স্বজন ও মাঝি সোনারগাঁওয়ে আসেন। পথে বৃষ্টির সময় ঝড়ের কবলে পড়ে গরু খাসিসহ ট্রলার মেঘনা নদীতে তলিয়ে যায়। এসময় তার আপন বোন রায়েশা বেগম নিহত হন ও ফুফাতো বোন জামাই হেলালউদ্দিসহ ৪ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহিদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মেঘনা নদীতে নিখোঁজ ব্যাক্তিদের সন্ধানে কাজ করছেন। পাশাপাশি নদীতে ঘটনাস্থল র্যাকি করছেন। নদীতে সন্ধ্যা নেমে আসার কারনে ডুবুরি দলের সদস্যরা কাজ করতে পারছেন না। রাতে সন্ধান না পেলে সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাবেন।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে তারা মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আরো একজনের মরদেহ উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে।