1. admin@pratidinernarayanganj.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সোনারগাঁয়ে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত, যুব ঋণের চেক ও পুরস্কার বিতরণ নতুন কুঁড়ি সৃজন ২: ধামগড় ইউনিয়নে শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কামতাল হালুয়াপাড়া প্রাথমিকে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত সোনারগাঁয়ের একমাত্র সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় নতুন কুঁড়ি সৃজন ২: ধামগড় ইউনিয়নে শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কামতাল হালুয়াপাড়া প্রাথমিকে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ: প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত চিকিৎসায় বাঁচতে পারে জীবন লগি-বৈঠার নির্যাতন ও হত্যার বিচারের দাবিতে মদনপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ সোনারগাঁয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘুমন্ত কিশোরীর গায়ে গরম পানি নিক্ষেপ করে হত্যাচেষ্টা ধামগড়ের মহজমপুর একতা যুবসংঙ্গ উদ্যোগে লক্ষীপূজা প্রধান অতিথি মোমেন ভূঁইয়া সভাপতি শফিকুল ইসলাম জমকালো আয়োজনে সোনারগাঁয়ে দৈনিক কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ​ রাইজদিয়া ঈদগাহ ও কবরস্থানের পাশে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

মে দিবসের অঙ্গীকার :ইসলামী প্রেক্ষাপট — মঈন চিশতী

প্রতিদিনের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫
  • ৪০ বার পঠিত

প্রতিদিনের নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক

ইসলাম শ্রম এবং শ্রমিকের যে মর্যাদা দিয়েছে তা অন্য কোন ধর্ম বা সভ্যতা দিতে পারেনি। শ্রমই উন্নয়নের চাবিকাঠি। কারণ শ্রম ছাড়া পৃথিবীতে কোনো কিছুই অর্জন করা যায় না। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী, সে জাতি তত বেশি উন্নতি করতে পারে। শ্রম আল্লাহ প্রদত্ত মানবজাতির জন্য এক অমূল্য শক্তি ও সম্পদ। কোরান-সুন্নাহতে শ্রমের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে। নবীজি ফরমান আল কাসেবু হাবীবুল্লাহ শ্রমিকরা হলো আল্লাহর বন্ধু। আল্লাহ সুবহানাহু বলেন,
لَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ فِى كَبَدٍ
(লাকাদ খালাকনাল ইনছা-না ফী কাবাদ।)
নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি। ( সুরা বালাদ ৪ )

রাসুলে পাক বলেন, ‘যে মানুষ যত বেশি কর্তব্যনিষ্ঠ, তার সফলতা তত বেশি। শ্রম বা কাজ হলো নবীদের সুন্নত। প্রত্যেক নবীই জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো না কোনো কাজ করেছেন। তারা কাজ করে উম্মতকে শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে বুঝিয়েছেন।
যেমন : আদম (আ.) কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নুহ (আ.) কাঠের কাজ করতেন, দাউদ (আ.) বর্ম প্রস্তুত করতেন, ইদ্রিস (আ.) দর্জির কাজ করতেন, শুয়াইব (আ.) এবং সালেহ (আ.) ব্যবসা করতেন, মুসা (আ.) মেষ চরাতেন। নবীজি সাল্লামাহু বলেছেন, ‘আল্লাহ দুনিয়ায় এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি ছাগল ও ভেড়া চরাননি। তখন সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসুল! আপনিও? রাসুল (সা.) বলেন, হ্যাঁ আমিও মজুরির বিনিময়ে মক্কাবাসীর ছাগল ও ভেড়া চরাতাম।’

রাসুল সাল্লামাহু শৈশবকাল থেকেই শ্রমপ্রিয় ছিলেন। তিনি শৈশবে চাচার সাথে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সিরিয়া যেতেন।
পরে তিনি মক্কার ধনবতী মহিলা খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদের বানিজ্যিক অংশীদার হয়ে ব্যবসায় করেছেন। তিনি শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক শ্রমের মাধ্যমে পৃথিবীতে ইসলামকে দ্বীন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রমিকের মর্যাদা এবং অধিকার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকের দেহের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ সাহাবায়ে কেরামও তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে গেছেন। যেমন : আবু বকর, ওমর এবং উসমান (রা.) ব্যবসা করেছেন। মাওলা আলী (রা.) মজুরির বিনিময়ে কূপ থেকে পানি ওঠাতেন। খাব্বাব (রা.) কর্মকার ছিলেন। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) মেষ চরাতেন। আনসার-সাহাবিরা সাধারণত কৃষিকাজ করতেন। আর মুহাজিররা ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। রাসুলে পাক (সা.) সব কাজকেই সমান ভাবে উৎসাহ দিতেন।

এমন বর্ণনাও এসেছে, সাদ (রা.) কামারের কাজ করতে করতে তার দুই হাতের তালু বিবর্ণ ও শক্ত হয়ে গিয়েছিল,একদা তিনি নবীজির সঙ্গে তিনি করমর্দন করলে হাতের এই অবস্থার কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন, “হাতুড়ি দিয়ে কাজ করতে গিয়ে এমন হয়েছে”। তা শুনে রাসুলে পাক (সা.) তার হাত চুম্বন করে বলেন, “এ হাতকে কখনো জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না”।

ইসলামে কোনো শ্রেণিবৈষম্য নেই। কোনো শ্রমই ইসলামের দৃষ্টিতে মূল্যহীন নয়। প্রতিটি শ্রমই মর্যাদার। আর কোনো পেশাই ঘৃণিত নয়। শ্রম আমাদের জীবনে এক অপরিহার্য বিষয়। শ্রমকে আল্লাহতায়ালা নিয়ামতের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আমরা যেকোনো ধরনের শ্রম ও পেশাকে সম্মান করব। নিজেরাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরিশ্রমী হব। মহান আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন।

মঈন চিশতী
সুফীতাত্ত্বিক, ধর্মচিন্তক ও ধর্মীয় কলামিষ্ট
গদীনশীন ও পরিচালক
লালপুরী দরবার শরীফ কমপ্লেক্স সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ -১৪৪০
email :mueenchishty@gmail.com

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর