
প্রতিদিনের নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক
সোনারগাঁয়ে দৈনিক সংবাদের সাংবাদিক সুমন মাহবুবকে একটি মামলায় আসামি করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে অবিলম্বে মামলাটি পর্যালোচনা করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সোনারগাঁয়ে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত একটি কোম্পানির পক্ষ থেকে সাংবাদিক সুমন মাহবুবের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সংবাদকর্মীকে এভাবে মামলায় জড়ানো হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, অতীতেও রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও চিটাগাং বিল্ডার্স কোম্পানির লোকজন একজন সংবাদকর্মীকে হত্যা মামলায় আসামি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় বাকস্বাধীনতার সংকটের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। তবে সোনারগাঁ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিক সমাজ নেপথ্যে ওই সংবাদকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানা যায়।
তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত বাংলাদেশে সাংবাদিকদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে—কোনো অভিযোগ পেলেই নিরপরাধ ব্যক্তির নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, কেবল তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বক্তারা বলেন, “সাংবাদিকের কলম থামাতে মামলা, হুমকি কিংবা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রতিবাদ করবে। কোনো নিরপরাধ সংবাদকর্মীকে হয়রানি করা হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হবে।”
তারা অবিলম্বে সাংবাদিক সুমন মাহবুবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা না থাকলে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সাংবাদিক সমাজের ওপর হয়রানি বন্ধ না হলে বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।