
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মৃত মো: জমির উদ্দিন ভুঁইয়ার ছেলে মো: জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া দুলাল ও জিয়া উদ্দিন ভুঁইয়া জীবনের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বহু দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ ব্যাপারে দুলাল জীবনের বিরুদ্ধে একাধিকবার সামাজিক সালিশ বসালে জীবন তা মানেনি। তাই দুলাল সোনারগাঁ থানা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মাদক সম্রাট জীবন ও তার স্ত্রী সাজেদা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত এবং মাদকনেশায় আসক্ত। এলাকায় মাদক ব্যবসার কারণে যুব সমাজ আজ নষ্ট হওয়ার পথে। সে অতিরিক্ত মাদকসেবন করার কারণে অর্জন ফাউন্ডেশন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পূণর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি ছিলো দির্ঘ দিন।
জসিমউদদীন ভুইঁয়া দুলাল জানান,
জীবনের সাথে আমার পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এবং জায়গা জমি নিয়ে দ্বন্ধ চলে আসছে বহু দিন ধরে। জীবন আমার কাছে ৩২ পয়েন্ট সম্পত্তি বিক্রি করে আমাকে জায়গা বুঝাইয়া না দিয়ে, আমার সাথে তালবাহানা করে আসছে। জীবন প্রতারনা করে আমার জায়গা তার নিজ নামে খারিজ করে নেয়।
আমি স্থানীয় মাধবদের মাধ্যমে, বিচার সালিসে সমাধান করতে গেলে জীবন স্থানীয় মাধবরদের কথা রাখেনি। সে উল্টো আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে।
জীবন গত ২ মে দশটায় আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনদেরকে দেশীয় অস্ত্র সন্ত্রেসজ্জিত হয়ে এবং ধারালো রামদা, ছেনা, লোহার রড, হকিস্টিক নিয়ে ভয় ভীতি দেখিয়ে আমার ক্রয়কৃত জায়গা জোর করে দেয়ালের সাথে টিনের চালা দিয়ে আটকিয়ে রাখে এবং জোর করে দখল করে।দুলাল আরো জানান,
আমি আমার জায়গায় গেলে আওয়ামীলীগের কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় মাদক সম্রাট জীবন স্বৈরাচার আওলামীলীগ ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে জীবন নিজেকে আওলামীলীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতা দাবী করে আমার ক্রয়করা সম্পত্তি জোর দখল করে রাখছে। তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দল বল নিয়া রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখাইয়া জোর করে আমার সম্পত্তি দখল করে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনদের সম্পত্তি থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে।
দুলাল বলেন, আমার ক্রয়করা বাড়িতে টিনের বেড়া ভেঙ্গে বিভিন্ন ফলের গাছ জোরকরে কেটে ফেলে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তার কু-কর্ম প্রকাশ করা হয়েছিলো কিন্তু আওয়ামীলীগের ক্ষমতাশীল ব্যক্তি হওয়ায় এবং তার বিরুদ্ধে আমি এবং আমার পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারিনি।
জীবন আল্লাহ ও নবীকে (সাঃ) কটাক্ষ করে কথা বলায় তাকে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর গ্রেফতার করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। সে এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ মূলক কাজ করে বেড়ায়। চুরি, ডাকাতি করতে গিয়ে এলাকার স্থানীয় লোকজন তাকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম তাকে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে সহযোগিতা করে।
তার দুই ছেলেও নানান জায়গায় চুরি, ছিনতাই করে একাধিকবার ধরা পরেছিল।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর জীবন ও তার স্ত্রী সন্তান ভিন্ন বেশে আবারও দাপট দেখাতে চাচ্ছে। নিজেদেরকে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে এখন।
তারা আগের মতোই মানুষকে হয়রানি জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। জিয়া উদ্দিন ভূঁইয়া জীবন বড় নেতা পরিচয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। মাদক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজি, লুটপাট, শালিশ বিচারের নামে টাকা নেয়াসহ নানান অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সোনারগাঁ থানায় তার বিরুদ্ধে ৭৪ নং মামলার আসামি জীবন।
সোনারগাঁ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রতন বৈরাগী জানান, সাহাপুর গ্রামের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে জিয়াউদ্দিন জীবনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।