
প্রতিদিনের নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় “প্রিন্সিপাল ১০০ প্লাজা” নামে বহুতল মার্কেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জোরপূর্বক বাড়ি উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী করোনা আক্তার শিউলি জানান, তার বাড়িটি “প্রিন্সিপাল ১০০ প্লাজা”-এর একই সীমানার পিছনের অংশে অবস্থিত। মার্কেট নির্মাণের আগেই প্রিন্সিপাল ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যান একেএম ফজল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওবায়েদ উল্লা, সহকারী ইঞ্জিনিয়ার আবু বক্কর, জমিদাতা ও দালাল ইয়াসিন খন্দকার, জাকারিয়া, ইমদাদ হোসেনসহ অন্যান্যরা একাধিকবার তার বাড়িসহ জায়গা নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি এতে সম্মত না হওয়ায় শুরু হয় নানাভাবে হয়রানি।
করোনা আক্তার শিউলি আরও জানান, তাকে ও তার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং যত কোটি টাকা খরচ হোক না কেন, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ভবন নির্মাণের সময় তারা বিল্ডিংয়ের চারপাশে ন্যূনতম জায়গা না রেখে বিদ্যুৎ লাইন, ড্রেন, সিঁড়ির কার্নিশ, ওয়াশরুম ও জেনারেটরের কাজ এমনভাবে করেছে, যাতে তিনি বিরক্ত হয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। নির্মাণকাজের সময় উপর থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে ইট, সুরকি ও কাটিং তার বাড়ির ওপর ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া তার জায়গার ভেতরে অনধিকার প্রবেশ করে জোরপূর্বক প্লাস্টার ও আস্তরণ কাজ চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
তিনি দাবি করেন, উক্ত নির্মাণকাজ বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ও অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সোনারগাঁ থানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রাজউকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রিন্সিপাল ১০০ প্লাজার একাধিক শেয়ার মালিক জানান, শেয়ার মালিকদের কমিটির পদ ব্যবহার করে ইয়াসিন খন্দকার, ইমদাদ হোসেন, জাকারিয়া ও খোকন প্রায় ১০০ জন শেয়ার মালিকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তারা প্রিন্সিপাল ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে গোপন সমঝোতায় বিশেষ সুবিধা নিয়েছেন।বেইমানি না প্রত্যেক শেয়ার মালিক তিনটি করে দোকান পাওয়া যেতো, বর্তমানে আড়াইটি করে দোকান দেওয়ার কথা তবে কিছু শেয়ার মালিক পেয়েছেন মাত্র দুটি দোকান।ইমদাদ এখন আঙুল ফুলে কলাগাছ। নিজের ও নিজের মেয়েদের নামে এতগুলো দোকান—কোটি টাকা দিয়ে জায়গা কিনে ও নিলাম কিনে এত টাকা কোথা থেকে এলো?”
একাদিক এলাকাবাসী জানান, মার্কেটের পাইলিং কাজের সময় পাশের প্রাইমারি স্কুল ও ভবনগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও ডেভেলপার কোম্পানি তা আমলে নেয়নি।বিল্ডিংয়ের সামনের সরকারি রাস্তা ও ড্রেন নিজেদের মতো করে ঢালাই দিয়ে দখলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এই বিষয়ে প্রিন্সিপাল ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওবায়েদ উল্লা বলেন,
“আমরা বুয়েট পাশ করা ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে মার্কেটের ডিজাইন করেছি এবং সেই ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করেছি। বর্তমানে আমি আমার ব্যক্তিগত নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত আছি।”এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহিববুল্লাহ জানান,“প্রথমে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, পরে ভুক্তভোগী জিডি করেছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”