
আব্দুল হান্নান, সোনারগাঁও প্রাতিনিধি (নারায়ণগঞ্জ)
বিশ্বের মেহনতি মানুষের স্মরণে বিশ্বের সাথে আমাদের দেশেও পালিত হয়েগেল “মে দিবস ২০২৬” ।
এ দিনের তাৎপর্য বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই দিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারাবিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
আর তাই আজ আমি তুলে ধরব ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমিক অধিকার কি?
ইসলামে শ্রমিকের অধিকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং মানবিক, দেড় হাজার বছর আগেই নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধান অধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে: যথাসময়ে ন্যায্য পারিশ্রমিক বা মজুরি পাওয়া, গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই (দ্রুত) বেতন পরিশোধ করা, সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ না দেওয়া, কাজের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মানবিক সম্মান ও সদাচরণ।
ইসলামে শ্রমিকের অধিকারের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
✍️ ন্যায্য মজুরি ও সময়মত পরিশোধ:
দ্রুত পারিশ্রমিক: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও”।
ন্যায়বিচার: শ্রমের ধরন ও যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া মালিকের দায়িত্ব। মজুরি নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বা শোষণ ইসলামে হারাম।
✍️ কর্মপরিবেশ ও কাজের ধরন:
সাধ্য অনুযায়ী কাজ: শ্রমিকের ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যদি কোনো কঠিন কাজ করানো হয়, তবে সেক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
নিরাপদ পরিবেশ: শ্রমিককে এমন পরিবেশে কাজ করানো, যেখানে তার জীবন বা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে।
✍️ মানবিক মর্যাদা ও সম্মান:
ভাই হিসেবে আচরণ: শ্রমিককে নিচু নজরে না দেখে, বরং তাকে ভাই হিসেবে গণ্য করা এবং পরিবারের সদস্যের মতো আচরণ করা (ভৃত্য বা দাস হিসেবে নয়)।
সদাচরণ: শ্রমিকের কোনো ভুল হলে তা মার্জনা করা এবং কাজের সময় তাদের কষ্ট না দেওয়া।
✍️ বিশ্রাম ও ইবাদতের সুযোগ:
কাজের ফাঁকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম ও নামাজের নির্দিষ্ট সময়ে তা আদায়ের সুযোগ দেওয়া।
✍️ শ্রমিকদের প্রতি ইসলামের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি:
শ্রমের মর্যাদা: ইসলামে শ্রমকে ‘ইবাদত’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং নিজ হাতে উপার্জন করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
শ্রমিক আল্লাহর বন্ধু: সততার সাথে কাজ করা শ্রমিককে আল্লাহর বন্ধু হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
সারকথা, ইসলামে শ্রমিকের অধিকার শুধু আইনগত নয়, বরং তা নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত।