1. admin@pratidinernarayanganj.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সোনারগাঁয়ে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত, যুব ঋণের চেক ও পুরস্কার বিতরণ নতুন কুঁড়ি সৃজন ২: ধামগড় ইউনিয়নে শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কামতাল হালুয়াপাড়া প্রাথমিকে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত সোনারগাঁয়ের একমাত্র সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় নতুন কুঁড়ি সৃজন ২: ধামগড় ইউনিয়নে শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কামতাল হালুয়াপাড়া প্রাথমিকে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ: প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত চিকিৎসায় বাঁচতে পারে জীবন লগি-বৈঠার নির্যাতন ও হত্যার বিচারের দাবিতে মদনপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ সোনারগাঁয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘুমন্ত কিশোরীর গায়ে গরম পানি নিক্ষেপ করে হত্যাচেষ্টা ধামগড়ের মহজমপুর একতা যুবসংঙ্গ উদ্যোগে লক্ষীপূজা প্রধান অতিথি মোমেন ভূঁইয়া সভাপতি শফিকুল ইসলাম জমকালো আয়োজনে সোনারগাঁয়ে দৈনিক কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ​ রাইজদিয়া ঈদগাহ ও কবরস্থানের পাশে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ: প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত চিকিৎসায় বাঁচতে পারে জীবন

প্রতিদিনের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। স্ট্রোক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির আন্তর্জাতিক প্রচারণার মূল বার্তা— “Every Minute Counts”। এর সঙ্গে রয়েছে “Know the Signs of Stroke” —অর্থাৎ স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন, দ্রুত পদক্ষেপ নিন। প্রতিপাদ্যের মূল কথা হলো, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক স্ট্রোক সংস্থা (World Stroke Organization—WSO) জানিয়েছে, স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি এবং লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করাই এ বছরের প্রচারণার অন্যতম লক্ষ্য। সংস্থাটির প্রচারণায় বলা হয়েছে, স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া গেলে জীবন রক্ষা এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

বিশ্বজুড়ে স্ট্রোকের উদ্বেগজনক চিত্র

স্ট্রোক কী এবং কেন হয়?

মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। মস্তিষ্কের কোষ স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় রক্তের মাধ্যমে। রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে বা রক্তক্ষরণ ঘটলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে রোগীর কথা বলা, হাঁটাচলা, দৃষ্টিশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।

স্ট্রোক প্রধানত দুই ধরনের। প্রথমত, ইস্কেমিক স্ট্রোক—যখন রক্ত জমাট বাঁধা বা অন্য কোনো কারণে মস্তিষ্কের রক্তনালি বন্ধ হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, হেমোরেজিক স্ট্রোক—যখন মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। এ ছাড়া সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে স্ট্রোকের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যাকে ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) বলা হয়। এ ধরনের লক্ষণ অল্প সময়ের মধ্যে সেরে গেলেও তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনবেন যেভাবে

স্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ মনে রাখা প্রয়োজন।

মুখ বেঁকে যাওয়া: হঠাৎ মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া বা হাসতে গেলে মুখের দুই পাশ সমানভাবে নড়াচড়া না করা।

হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া: শরীরের এক পাশের হাত বা পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা কিংবা অবশভাব দেখা দেওয়া।

কথা বলতে সমস্যা: কথা জড়িয়ে যাওয়া, সঠিকভাবে কথা বলতে না পারা অথবা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।

দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা: হঠাৎ এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।

ভারসাম্য হারানো: আকস্মিক মাথা ঘোরা, হাঁটতে অসুবিধা হওয়া কিংবা শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় হারানো।

অস্বাভাবিক তীব্র মাথাব্যথা: কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা দেখা দেওয়া।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এসব লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দিলেও স্ট্রোকের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। সব লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করা বিপজ্জনক।

স্ট্রোক সন্দেহ হলে কী করবেন?

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখতে হবে এবং চিকিৎসককে জানাতে হবে। সম্ভব হলে রোগীকে দ্রুত এমন হাসপাতালে নিতে হবে, যেখানে স্ট্রোক নির্ণয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া রোগীকে অ্যাসপিরিনসহ কোনো ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। কারণ, সব স্ট্রোক রক্তনালি বন্ধ হওয়ার কারণে হয় না; কিছু ক্ষেত্রে রক্তনালি ফেটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটে। ভুল ওষুধ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। রোগীকে খাবার বা পানীয় দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ স্ট্রোকের পর গিলতে অসুবিধা হতে পারে।

লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে গেলেও চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ, সাময়িক লক্ষণও গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। স্ট্রোকের ধরন নির্ণয়ে দ্রুত সিটি স্ক্যান বা এমআরআইয়ের মতো পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর অবস্থা ও স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করেন। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রক্ত জমাট ভাঙার চিকিৎসা বা রক্তনালির বাধা অপসারণের বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব। তবে এসব চিকিৎসা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়; রোগীর অবস্থা ও পরীক্ষার ফলের ওপর তা নির্ভর করে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব কারণ

স্ট্রোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ উচ্চ রক্তচাপ। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, হৃদ্‌রোগ, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বয়স বৃদ্ধি এবং আগে স্ট্রোক হওয়ার ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তবে স্ট্রোক কেবল বয়স্কদের রোগ নয়; বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, তামাক পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতন জীবনযাপন

স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, শাকসবজি ও ফলমূলসমৃদ্ধ সুষম খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কম খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য পরিহার করতে হবে। হৃদ্‌রোগ বা অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দনের সমস্যা থাকলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। যাদের আগে স্ট্রোক হয়েছে, তাঁদের পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপ প্রয়োজন।

সচেতনতাই পারে জীবন বাঁচাতে

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের তাৎপর্য কেবল একটি দিবস পালনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনাই এর মূল উদ্দেশ্য।

প্রতিটি মানুষের উচিত স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে প্রস্তুত থাকা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।


হাকীম আব্দুল হান্নান
ডিইউএমএস রেজিঃএ-৪২৩৩

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর