1. admin@pratidinernarayanganj.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাচপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কাচপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ মাদক,ছিন্তাই,সন্ত্রাস,ঠেকাতে চেয়ারম্যানের কাছে সিসি ক্যামেরা চেয়ে আবেদন আহত সাংবাদিক সানাউল্লাহ মুন্সী দেখতে গেলেন ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাত গ্রেফতার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার আড়াইহাজার থানা মসজিদ থেকে লুণ্ঠিত পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার  সোনারগাঁওয়ে জমি নিয়ে ২পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ ১০জন আহত সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান। সোনারগাঁয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ৫ শতাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ২ টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা রূপগঞ্জে কায়েতপাড়ায় সরকারি রাস্তায় দেয়াল ও পিলার নির্মাণ: জনদুর্ভোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

ভাষা আন্দোলনের প্রথম আহবায়ক কে, চেনেনা সোনারগাঁয়ের মানুষ

প্রতিদিনের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩৬ বার পঠিত

প্রতিদিনের নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক

২১শে ফেব্রুয়ারি। প্রভাতফেরির গান, শহিদ মিনারের পুষ্পস্তবক আর রঙিন আলপনায় সেজেছে দেশ। কিন্তু রাজধানী থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে সোনারগাঁর গোবিন্দপুর গ্রামের এক নিভৃত কবরস্থানে শায়িত আছেন এমন এক মানুষ, যাঁর হাত ধরেই একদিন দানা বেঁধেছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলার আন্দোলন। তিনি ড. নূরুল হক ভূঁইয়া—ইতিহাসের এক বিস্মৃত নায়ক।

১৯৪৭ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যখন উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছিল, তখন মুষ্টিমেয় যে কজন নির্ভীক মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন ড. নূরুল হক ভূঁইয়া। তমুদ্দুন মজলিসের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে তিনি কেবল তত্ত্বকথা বলেননি, বরং মাঠপর্যায়ে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৪৭ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ছিলেন ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর প্রথম আহ্বায়ক। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, আন্দোলনের সেই সূচনালগ্নের সারথি আজও রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘একুশে পদক’ পাননি।

তিনি শুধু রাজপথের লড়াকু সৈনিক ছিলেন না, ছিলেন মেধাবী এক বিজ্ঞানীও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের এই অধ্যাপক আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন পাটের অগ্নিরোধক মিশ্রণ এবং বিমানের ইঞ্জিনে ব্যবহৃত ‘সলিড লুব্রিকেন্ট’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে। দেশের বিজ্ঞানচর্চায় তাঁর এই অনন্য অবদানও আজ প্রচারের আড়ালে।
সোনারগাঁর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি ঘটা করে পালন করা হলেও, স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ড. নূরুল হকের সমাধিতে একগুচ্ছ ফুল দেওয়ার সৌজন্যটুকুও দেখানো হয় না। এলাকাবাসীর অভিযোগ,তাঁর নামে কোনো তোরণ বা সড়কের নামকরণ হয়নি। তাঁর পৈত্রিক ভিটায় কোনো পাঠাগার বা জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ শিক্ষার্থীই জানে না তাদের ঘরের কোণেই ঘুমিয়ে আছেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম স্থপতি। কেবল সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতন তাদের সীমিত সামর্থ্যে তাঁকে জীবদ্দশায় স্বর্ণপদক দিয়েছিল। এর বাইরে বড় কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি এই কালজয়ী ব্যক্তিত্বের।১৯৯৮ সালের ২ এপ্রিল ড. নূরুল হক ভূঁইয়া পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ও আন্দোলনের ফসল আজ সারা বিশ্বের ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। এই বীরকে প্রাপ্য সম্মান না দেওয়া কি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা নয়?

সোনারগাঁর এই কৃতি সন্তানের স্মৃতি রক্ষায় এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। অন্যথায় ইতিহাসের পাতা থেকে এক মহানায়কের নাম মুছে যাওয়ার দায়ভার আমাদের উত্তরসূরিদের নিতে হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর