
মাওঃ আব্দুল হান্নান , ধর্মীয় সম্পাদক , রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন ( RJF )সোনারগাঁও শাখা।
কুরবানী হলো ইসলামের একটি মহান নিদর্শন এবং ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও তাকওয়া অর্জনের প্রধান মাধ্যম। ১০ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত
কুরবানী হলো ইসলামের একটি মহান নিদর্শন এবং ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও তাকওয়া অর্জনের প্রধান মাধ্যম। ১০ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এটি আদায় করা ওয়াজিব। এটি ত্যাগের মহিমা ও ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করে।
📢 কুরবানীর গুরুত্ব ও ফজিলত নিচে তুলে ধরা হলো:
✍️ কুরবানীর গুরুত্ব:-
আল্লাহর নির্দেশ: পবিত্র কুরআনে কুরবানীকে সালাতের সাথে অপরিহার্য ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে,
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ؕ
আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।
(সূরা আল-কাউসার, আয়াত ২)
✍️সুন্নাহ ও আদর্শ: হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মৃতি রক্ষার্থে এই বিধান প্রবর্তিত হয়েছে।
হাদিস শরিফে এসেছে,
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ قُلْتُ أَوْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذِهِ الْأَضَاحِيُّ قَالَ سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ
-“ইয়া রাসুলাল্লাহ্! এ কুরবানিটা কী? তিনি ইরশাদ করলেন- তা তোমাদের পিতা ইবরাহিম (عليه السلام)-এর সুন্নাত (বা প্রচলন-পন্থা-পদ্ধতি)।”
আল-মুসনাদে আহমদ হাদিস নং- ১৯২৮৩;
✍️তাকওয়া বা আল্লাহভীতি:- কুরবানীর পশুর রক্ত বা গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং বান্দার অন্তরের একনিষ্ঠতা ও তাকওয়াই তাঁর কাছে কবুল হয়। আল্লাহ বলেন,
কখনই আল্লাহ্র নিকট পৌঁছায় না উহাদের গোশত্ এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাক্ওয়া।
لَنْ يَّنَالَ اللّٰهَ لُحُـوْمُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلٰـكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوٰى مِنْكُمْؕ
সূরা হজ্ব ,আয়াত : ৩৭
✍️ওয়াজিবুল আদায়: -সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী ,,পরিত্যাগ করা অত্যন্ত গোনাহের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে বলেছেন, সামর্থ্যবান যে ব্যক্তি কোরবানি করে না সে ব্যক্তি যেন ঈদগাহের ধারেও না আসে।
📢 কুরবানীর ফজিলত ও উপকারিতা
✍️গুনাহ মাফ ও নেকি লাভ: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কুরবানীর পশুর প্রতিটি লোমের বিনিময়ে আল্লাহ বান্দাকে একেকটি নেকি দান করেন এবং গুনাহ মাফ করেন।
✍️রক্তের মর্যাদা: কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়।
✍️সামাজিক কল্যাণ: কুরবানীর গোশত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়, যা সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে।
ইসলামের প্রতিটি বিধানের ন্যায় কোরবানিতেও ধর্মীয় সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। সুতরাং সামর্থ্যবান প্রতিটি ব্যক্তির উচিত আর্থ-সামাজিক অঙ্গনে ইসলামের সুমহান সৌন্দর্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কোরবানি করা।